বুধবার ১২ আগস্ট ২০২৬ - ১৬:৪৫
আমিরুল মুমিনিন আলী (আ.)-এর বাণীতে মহানবী (সা.)-এর ইন্তেকালের শোকের গভীরতা

আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী (আ.)-এর ভাষ্যে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ইন্তেকাল উম্মতের ওপর এমন এক গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে, যার তুলনায় অন্য সব দুঃখ-কষ্ট—তা যতই গুরুতর হোক—ক্ষুদ্র ও নগণ্য বলে প্রতীয়মান হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের শোকই পরবর্তী সব দুঃখ-বেদনার গভীরতা পরিমাপের মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা জাওয়াদী আমুলি এক বক্তব্যে মহানবী (সা.)-এর ইন্তেকালের শোকের গভীরতা ও মহত্ত্ব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক তুলে ধরেছেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের শোক সর্ববৃহৎ
আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী (আ.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের শোক সম্পর্কে বলেছেন:

وَ إِنَّ الْمُصَابَ بِکَ لَجَلِیلٌ، وَ إِنَّهُ قَبْلَکَ وَ بَعْدَکَ لَجَلَلٌ.¹

অর্থাৎ, ‘আপনার ইন্তেকালের শোক নিঃসন্দেহে মহান; আর আপনার আগে ও পরে সংঘটিত অন্যান্য সব শোক তার তুলনায় নগণ্য।’

আয়াতুল্লাহ জাওয়াদী আমুলি ব্যাখ্যা করেন,
এখানে ‘জালাল’ (جَلَل) শব্দটি তুচ্ছ বা নগণ্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এর বিপরীতে মহানবী (সা.)-এর ইন্তেকালের শোককে বলা হয়েছে ‘জালিল’ (جلیل)—অর্থাৎ মহান, বিশাল ও অত্যন্ত গভীর।

অর্থাৎ, মহানবী (সা.)-এর ইন্তেকালের শোক এমন এক মহাশোক, যার তুলনায় তাঁর আগে সংঘটিত কিংবা তাঁর পরে সংঘটিত অন্যান্য সব শোক-কষ্ট ক্ষুদ্র ও নগণ্য হয়ে যায়।

আমিরুল মুমিনিন আলী (আ.)-এর বাণীতে মহানবী (সা.)-এর ইন্তেকালের শোকের গভীরতা

মহানবী (সা.)-এর শোক অন্য সব শোককে সহনীয় করে তোলে
আয়াতুল্লাহ জাওয়াদী আমুলি তাঁর বক্তব্যের অন্য অংশে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের মর্মান্তিকতার প্রসঙ্গে মহানবী (সা.)-কে উদ্দেশ করে আমিরুল মুমিনিন (আ.)-এর আরেকটি বাণী উল্লেখ করেন:

لَقَدْ خَصَّصْتَ حَتَّى صِرْتَ مُسَلِّیًا عَمَّنْ سِوَاکَ، وَ عَمَّمْتَ حَتَّى صَارَ النَّاسُ فِیکَ سَوَاءً.²

এর মর্মার্থ হলো, ‘আপনার শোক এমন এক স্বতন্ত্র মহিমা অর্জন করেছে যে, তা অন্য সব শোকের ক্ষেত্রে সান্ত্বনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়; আবার এর ব্যাপকতা এমন যে, মানুষের অন্যান্য সব শোক আপনার শোকের তুলনায় সমানভাবে ক্ষুদ্র হয়ে যায়।’

আয়াতুল্লাহ জাওয়াদী আমুলি বলেন, মহানবী (সা.)-এর ইন্তেকালের শোকের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে—এটি অন্য সব দুঃখ-কষ্টের তুলনায় এত গভীর ও মহান যে, পরবর্তী কোনো বিপদ বা শোকের মুখোমুখি হলে মানুষ মহানবী (সা.)-এর ইন্তেকালের শোক স্মরণ করে তা সহ্য করার শক্তি পেতে পারে।

কারণ, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের শোকের তুলনায় অন্য সব দুঃখ-কষ্ট অত্যন্ত ক্ষুদ্র। এ কারণেই তাঁর ইন্তেকালের শোক একই সঙ্গে সর্ববৃহৎ এবং অন্য সব শোকের জন্য এক ধরনের সান্ত্বনার উৎস।

সূত্র:

১. নাহজুল বালাগা, হিকমত ২৯২,

২. নাহজুল বালাগা, খুতবা ২৩৫।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha